যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছে ইরান। এ খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনাও বেড়েছে। ভূরাজনৈতিক এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরো বেড়েছে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার হ্রাসও পণ্যটির বাজারদর কমার পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ৪৩ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৫ ডলার ৬ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ৫০ সেন্ট বা দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৩ ডলার ২ সেন্টে।
এ বিষয়ে লন্ডনভিত্তিক কমোডিটি ট্রেডিং কোম্পানি অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের অ্যানালিস্ট হ্যারি চিলিঙ্গুরিয়ান বলেন, ‘গত সপ্তাহের শেষে রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলার পর আবারো ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে। তবে এ সময় পণ্যটির দামে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে চলমান অচলাবস্থা।’
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের শেষে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাকালে রাশিয়ার একটি মহাসড়কের সেতু উড়িয়ে দেয়া হয় এবং মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে সাইবেরিয়ার গভীরে পারমাণবিক হামলায় সক্ষম বোমারু বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
এদিকে সোমবার এক ইরানি কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত পরমাণু চুক্তিটি তেহরানের স্বার্থ রক্ষা করে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান বজায় আছে। এ কারণে ইরান এ চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ফলে দেশটি থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহও কমবে। এমন পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে ডলারের বিনিময় হার ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। ডলারের বিনিময় হার কমে গেলে অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি তেল তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এ সময় চাহিদা বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে দামে।
এ বিষয়ে ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সচদেব বলেন, ‘গতকাল ডলারের নিম্নমুখী বিনিময় হার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে।’
এছাড়া কানাডার আলবার্টা প্রদেশে দাবানলের কারণে সরবরাহসংক্রান্ত উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কিছু জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, কানাডার এ দাবানল দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলনে প্রভাব ফেলেছে, যা দেশের মোট অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের প্রায় ৭ শতাংশ।
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় উত্তোলন জুলাইয়ে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। যদিও বাজারসংশ্লিষ্টরা এর আগে ধারণা করেছিলেন আগামী মাস থেকে উত্তোলন বাড়ানো হতে পারে। ওপেক প্লাস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে তেমন ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থেকেছে সৌদি আরব ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটটি। এ খবরে সোমবার জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।